চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ বিষয়ে সাঁওতালদের মিথ(Myth)
![]() |
চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ |
বর্তমানে বিজ্ঞান সচেতন মানুষ মাত্রই জানে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ প্রাকৃতিক ঘটনা। কেন ও কীভাবে হয় সেটাও বিজ্ঞান সচেতন মানুষ জানে। কিন্তু প্রাচীনকালে মানুষের জ্ঞান যখন সীমিত ছিল, তখন এই চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ নিয়ে প্রায় সব জগোষ্ঠীর মধ্যেই নিজস্ব কিছু দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যাখ্যা বা মিথ(Myth) ছিল। ছিল এই চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ নিয়ে কিছু ক্রিয়াকর্ম। তেমনি সাঁওতাল সমাজেও চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ নিয়ে আছে মিথ ও ক্রিয়াকর্ম।
চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ বিষয়ে বৈজ্ঞানকি ব্যাখ্যা:
সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী চারদিকে ঘুরছে। যাকে বলে বার্ষিক গতি। যার ফলে বছর হয় এবং বিভিন্ন ঋতুর আগমন ঘটে। সাথে পৃথিবী নিজের অক্ষেও লাটিমের মতো ঘুরছে। যাকে বলে আহ্নিক গতি। যার ফলে দিন ও রাত হয়। আর পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ। সূর্যের আলো চাঁদে প্রতিফলিত হয়ে যখন আমাদের কাছে আসে, তখনই আমরা চাঁদকে জ্বলতে দেখি। পৃথিবী ও চাঁদের এই ঘুরে চলার পথে যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে চাঁদ চলে আসে তখন সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে বাধা পায়। তখন ঘটে সূর্যগ্রহণ। আর সূর্য ও চাঁদের মাঝে যখন পৃথিবী অবস্থান করে তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপরে পড়ে। যার ফলে ঘটে চন্দ্রগ্রহণ।
সাঁওতালদের মিথ ও ক্রিয়কর্ম:
সাঁওতালদের মিথে আছে- কোনো এক সময় পৃথিবীতে খুব আকাল পড়েছিল। মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছিল। তখন চাঁদ ও সূর্য দুসৗত কিসৗড় নামে এক দুষ্টু ধনী লোকের কাছ থেকে চাউল ঋণ করে মানুষদের দিয়েছিল। পরে ঋণ শোধ করার পরেও দুষ্টু ধনী লোক মাঝে ঋণের দাবি নিয়ে চাঁদ ও সূর্যকে ধরে। চাঁদ ও সূর্যকে ধরতে গিয়ে ঢেকে ফেলে। তখনই চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ হয়। যাকে সাঁওতালি ভাষায় বলে চান্দো গানহা। এসময় সাঁওতালরা কৃতজ্ঞতা স্বরূপ পৃথিবী থেকে গানহা ছোড় বলে চিৎকার করে। সেই চিৎকার শুনে দুসৗত কিসৗড় চাঁদ ও সূর্যকে ছেড়ে দেয়। ফলে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘটে।
সাঁওতাল সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের সময় নিম পাতার শিরা বা কাস্তে দিয়ে শরীরের ব্যথাযুক্ত স্থানে আগুনের ছেকা দিলে কোমর ব্যথা, হাটু ব্যথা ইত্যাদি সেরে যায়। যেসব গাছে ফল ধরে না বা কম ধরে সেসব গাছে যদি খড় দিয়ে বেধে দেওয়া হয়, তাহলে ভালো ফল ধরবে।
বর্তমানে এগুলোকে হাস্যকর বা কুসংস্কার বলে মনে হলেও এই মিথ ও ক্রিয়কর্মের গুরুত্ব আছে। এই মিথ ও ক্রিয়াকর্ম প্রমাণ করে যে, সাঁওতালরা চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ নিয়ে চিন্তা করেছে। ব্যাখ্যার অনুসন্ধান করেছে। হয়তো সেগুলো পর্যপ্ত ছিল না। কিন্তু সেগুলো ছিল আধুনিক চিন্তার বা বিজ্ঞানের অগ্রদূত।
Photo- Wikipedia.
