ধর্মান্তরিত সাঁওতালদের পদবী ব্যবহারের প্রয়োজন নেই
সাঁওতালদের পদবী ১২টি। এগুলো হলো- হাসদা, কিস্কু, মার্ডি, মুর্মু, টুডু, বাস্কি, চড়েঁ, পাউরিয়া, বেসরা, সরেন, হেমরম ও বেদেয়া। এই পদবীগুলো শুধু নামের শেষে কিছু শব্দ নয়। এগুলো সাঁওতালদের ধর্ম ও সংস্কৃতির সাথে জড়িত। যেসব কারণে ধর্মান্তরিত সাঁওতালদের পদবী ব্যবহারের প্রয়োজন নেই তার বিশেষ কিছু কারণ নিচে আলোচনা করা হলো-
১/ সাঁওতালারা তাদের সৃষ্টিতত্ত্ব অনুযায়ী বিশ্বাস করে আদি পিতা
পিলচু হাড়াম ও পিলচু বুডহি মারাংবুরু এর পরামর্শে তাদের প্রথম বারোজন সন্তানকে এই বারটি পদবী প্রদান করে। কিন্তু
ধর্মান্তরের পর এই সৃষ্টিতত্ত্বের ওপর বিশ্বাস থাকে না। ফলে পদবী ব্যবহারেরও দরকার
নেই।
২/ প্রত্যেক পদবীর ভিন্ন ভিন্ন গৃহদেবতা থাকে। তাদের নিয়ম মেনে
পূজা করতে হয়। কিন্তু ধর্মান্তরের পর সেটা মেনে চলা হয় না।
৩/ সাঁওতালদের একই পদবীদে বিয়ে করা নিষেধ। তাই বিয়ের সমন্ধের
শুরুতেই তারা পদবী জিজ্ঞেস করে নেয়। যার জন্য সাঁওতালরা সাঁওতালের বাইরে বিয়ে করে
না। কিন্তু ধর্মান্তরের পর পদবীর চেয়ে ধর্মান্তর হয়েছে কিনা সেটা বেশি গুরুত্ব
পায়। যার জন্য সাঁওতাল না হলেও বাইরে যে কাউকেই বিয়েতে বাধা থাকে না। একইভাবে
ধর্মান্তরিতদের মধ্যে একই পদবীতে বিয়ে অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই কারণে সাঁওতাল ও
অ-সাঁওতাল বিবাহিতদের সন্তানেরও পদবী ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
৪/ প্রত্যেক পদবীতে কিছু বাধা-নিষেধ আছে। যেমন কারও বিয়েতে মৗড় চলে, কারও আবার চলে না। ধর্মান্তরের পর এটার গুরুত্ব থাকে না।
৫/ সাঁওতাল সমাজের ছুত দূর করার মত ধর্মীয় কাজে শুধু মুর্মু পদবীরা
কাজ করতে পারে। কিন্তু ধর্মান্তরিত হওয়ার পর এটার প্রয়োজন পড়ে না। তাদের ধর্ম
গুরুরাই প্রায় সকল কাজ করে।
উরিউক্ত কারণেই বলা যায় ধর্মান্তরিত সাঁওতাদের পদবী ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তারপরও যারা পদবী ব্যবহার করবে বুঝতে হবে তারা অস্তিত্ব সংকটে পড়ে পদবী ব্যবহার করছে; সাঁওতাল পরিচয় থেকে যেন বাদ না পড়ে এ ভয়ে।