সাঁওতালরা বাহাবঙ্গা করে কেন?
বাহা হচ্ছে সাঁওতালদের দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বাহা অর্থ ফুল। বঙ্গা অর্থ দেবতা। বঙ্গা এর ব্যবহারিক আরেকটি অর্থ হলো পূজা বা পূজা করা। সে হিসেবে বাহাবঙ্গা এর বাংলা অর্থ বাহাপূজা বা ফুলপূজা বলা যায়।
আমরা জানি ফুল ফোটার মধ্যে দিয়ে প্রকৃতি বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে। প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটে। ফুল থেকে ফল, ফল থেকে আবারও নতুন জীবনের সূচনা। ফুলের মধ্য দিয়ে স্রষ্টা তার সৃষ্টিকে বজায় রেখেছেন। এভাবেই স্রষ্টা তাঁর অস্তিত্বের প্রকাশ করেন।
একটি মেয়ে যখন ঋতুবতী হয়, সাঁওতালরা তাকে বলে বাহাঃ কানায়। মাতৃগর্ভে সন্তান যেসব জিনিস দিয়ে সংযুক্ত থাকে, সেগুলোর কিছু অংশকে গিদরৗওয়াঃ বাহা বলে। এই বাহা এর মধ্য দিয়ে মা-বাবা থেকে সন্তানের দেহে প্রাণের সঞ্চার ঘটে। যে প্রাণের সূচনা করেছেন স্রষ্টা নিজেই।
তাই বাহাবঙ্গা মধ্য দিয়ে স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়। জীবন প্রবাহ বজায় রাখার আবেদন করা হয়। বিচিত্রতা বজায় রাখার নিবেদন করা হয়।
ফাল্গুণ মাসের চাঁদকে সাঁওতালরা বাহা চাঁদ বলে। এই চাঁদ যতদিন থাকে তার মধ্যে যখন প্রকৃতিতে নতুন ফুলের আগমন ঘটে, শাল, মহুয়া, জাম, পলাশ, মাদার ফুল ফোটে তখন প্রতিটি সাঁওতাল গ্রামে জাহের থানে সাঁওতালদে বঙ্গা(দেবতা) জাহের আয়ো, মারাংবুরু, ধরম গঁসায়, মড়েঁ ক তুরুয় ক এর উদ্দেশ্যে যথাক্রমে হেড়াঃ কালট, পুঁড সিম, আরাঃ সৗন্ডি, আরাঃ পুঁড সিম এবং ফুল ফল উৎসর্গ করে বঙ্গা(পূজা) করা হয়। সেই সাথে গ্রামের সীমানায় সিমৗসাড়ে বঙ্গা করা হয় হেন্দে সিম দিয়ে। বাহা বঙ্গার প্রথম দিনকে বলে বাহা উম, দ্বিতীয় দিনকে বলে বাহা সৗরদি, তৃতীয় বা শেষ দিনকে বলা হয় বাহা মুচৗদ্ বা বাহা বাস্কে।
তথ্যের উৎসগ্রন্থ-
১. জমসিমবিন্তি
২. জাহের বঙ্গা সান্তাড় ক
৩. হড়কোরেন মারে হাপড়ামকো রেয়াঃ কাথা
