Santali Alphabet - ᱚᱞ ᱪᱤᱠᱤ

Subas Murmu
By -
0

ᱚᱞ ᱪᱤᱠᱤ

Santali Alphabet

সাঁওতালি ভাষার নিজস্ব বর্ণমালার নাম ‘অলচিকি’ (Ol Chiki)। এই লিপিটি সাঁওতাল সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং শিক্ষার প্রসারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে অলচিকি লিপি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:


১. অলচিকি লিপির উদ্ভব ও ইতিহাস

  • আবিষ্কারক: এই লিপির স্রষ্টা হলেন পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু (Pandit Raghunath Murmu)। তাঁকে সাঁওতালি সাহিত্যে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে দেখা হয় এবং 'গুরু গোমকে' (মহান শিক্ষক) বলা হয়।

  • সময়কাল: তিনি ১৯২৫ সালে ভারতের ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় এই লিপিটি উদ্ভাবন করেন।

  • উদ্দেশ্য: রঘুনাথ মুর্মু লক্ষ্য করেছিলেন যে বাংলা, ওড়িয়া বা রোমান লিপি দিয়ে সাঁওতালি ভাষার সঠিক উচ্চারণ এবং ধ্বনি প্রকাশ করা কঠিন। সাঁওতালি ভাষার নিজস্ব ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলো রক্ষা করতেই তিনি এই বিজ্ঞানসম্মত লিপি তৈরি করেন।

২. নামের অর্থ

‘অল’ (Ol) শব্দের অর্থ হলো লেখা বা লিপি এবং ‘চিকি’ (Chiki) শব্দের অর্থ হলো চিহ্ন। অর্থাৎ, অলচিকি মানে হলো ‘লিখন চিহ্ন’ বা ‘লেখার সংকেত’।

৩. অলচিকি লিপির বৈশিষ্ট্য

অন্যান্য ভারতীয় লিপির (যেমন বাংলা বা দেবনাগরী) চেয়ে অলচিকি কিছুটা আলাদা এবং বেশ বিজ্ঞানসম্মত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • বর্ণসংখ্যা: অলচিকি বর্ণমালায় মোট ৩০টি বর্ণ বা অক্ষর রয়েছে।

  • বিন্যাস: এই ৩০টি বর্ণকে ৬টি কলাম এবং ৫টি সারিতে সাজানো হয়।

                এর মধ্যে ৬টি স্বরবর্ণ (Vowels)।
                এবং ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণ (Consonants)।

  • প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত: এই লিপির একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, অক্ষরগুলোর আকৃতি প্রকৃতির বিভিন্ন বস্তু বা কাজ থেকে নেওয়া হয়েছে। যেমন- কোনো একটি অক্ষরের আকৃতি মুখের মতো, কোনোটি পৃথিবীর মতো, আবার কোনোটি মাশরুম বা ছাতুর মতো দেখতে। এটি শেখা খুব সহজ করে তোলে।


  • বর্ণমালা (Alphabet): বাংলা লিপির মতো এটি 'আবুগিদা' (Syllabic) নয়, বরং ইংরেজি বর্ণমালার মতো এটি একটি প্রকৃত 'অ্যালফাবেট'। অর্থাৎ, এখানে ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরবর্ণ যুক্ত থাকে না, আলাদাভাবে লিখতে হয়। অলচিকি লিপি বাম দিক থেকে ডান দিকে লেখা হয়।

৪. সরকারি স্বীকৃতি

দীর্ঘ আন্দোলনের পর, ২০০৩ সালে ভারতের সংবিধানের ৯২তম সংশোধনীর মাধ্যমে সাঁওতালি ভাষাকে ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে (8th Schedule) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে অলচিকি লিপি সরকারি কাজে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহারের আইনি স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং বাংলাদেশেও এই লিপির চর্চা বাড়ছে।


Tags:

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default